রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

গাউছুল আজম হজরত আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর (ক.) প্রথম গদীনশীন খলিফা হজরত শাহসূফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী (র.)

নিউজ ডেস্ক

শেখ বিবি কাউছার
প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ, রাউজান, চট্টগ্রাম।

- Advertisement -

ভাণ্ডার’ শব্দটি শুনলেই মনে পড়ে ধন-রত্ন, সম্পদ, ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের কথা। কিন্তু মাইজভান্ডারি তরিকার প্রবর্তক হজরত গাউছুল আজম আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর (ক.) ‘ভাণ্ডার’ হলো আধ্যাত্মিক জ্ঞানে পরিপূর্ণ এক মহাসাগর।

শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) বলেছেন—
“Maizbhander Sharif is an ocean. Do not think otherwise.” অর্থাৎ মাইজভান্ডার শরীফ একটি মহাসমুদ্র।

যেমন সাগরে দুনিয়ার ময়লা-আবর্জনা গিয়ে ধুয়ে যায় এবং সেখানেই থাকে মূল্যবান সম্পদ—তেমনি মাইজভান্ডার দরবার শরীফও। যে একবার এই মহাসাগরে ডুব দিয়েছে, সেই জানে এর গোপন রহস্য। অনেক অলি-আউলিয়া এখান থেকে ফয়েজ প্রাপ্ত হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম ও প্রধান খলিফা ছিলেন— গাউছুল আজম, কুতুবুল আকতাব, হজরত মৌলানা শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী (র.)।

জন্ম ও শৈশব
তিনি ১৮৫২ সালের ২১ জানুয়ারি (৭ মাঘ ১২১৪ বঙ্গাব্দ, ১২৭০ হিজরি) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ মাস বয়সে মাকে হারান। চার বছর বয়সে স্থানীয় মক্তবে পাঠ শুরু করেন। শৈশব থেকেই তাঁর ভদ্রতা, বিনয় ও প্রখর মেধা দেখে প্রতিবেশীরা ধারণা করতেন, তিনি একদিন মহাপুরুষ হবেন।

দশ বছর বয়সে তিনি আলিয়ে কামেল জনাব মৌলানা সৈয়দ আতহার আলীর কাছে পড়াশোনা শুরু করেন। তাঁর শিক্ষক তখনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন— “আমার ছাত্রদের মধ্যে এই অছিয়র রহমান উচ্চস্তরের মর্মবাদী সাধক হইবে।”

শিক্ষা জীবন
তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মাদ্রাসা (বর্তমানে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ) থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসা হয়ে কলকাতার মাদ্রাসায়ে আলীয়ায় ভর্তি হন। সেখানে হাদিস, তাফসির, কালাম, আকায়েদ, ফিকাহসহ আরবি, ফারসি, উর্দু ও বাংলায় বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি আলীগড় জামেউল উলুম মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে যোগ দেন। তবে এক রাতে স্বপ্নযোগে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে নির্দেশ দেন— গাউছুল আজম আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর (ক.) খেদমতে হাজির হয়ে বেলায়তের প্রথম দ্বার স্বরূপ দায়িত্ব গ্রহণ করতে।

মাইজভান্ডারে যোগদান
স্বপ্নের নির্দেশ মোতাবেক তিনি গাউছুল আজমের খেদমতে হাজির হন। বায়াত গ্রহণের পর থেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। ১৩০০ হিজরিতে তিনি গাউছুল আজম আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর (ক.) প্রধান ও প্রথম খলিফা নিযুক্ত হন।

‘জীবনী ও কারামত’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, গাউছুল আজম তাঁকে নিজের এক চোখ ও এক হাতের সমতুল্য আখ্যা দিয়েছিলেন।

প্রশংসা ও স্বীকৃতি
আল্লামা গাজী সৈয়দ আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহ.) তাঁর প্রসঙ্গে বিখ্যাত দিওয়ান-ই-আজীয গ্রন্থে লিখেছেন—

“আলিমকুলের আদর্শ, ত্বরীকতপন্থীদের শিরোমণি, আত্মশুদ্ধির পথপ্রদর্শক, নবীকুল সরদারের প্রিয়পাত্র, কামিল পীর, যুগপ্রসিদ্ধ বুজুর্গ, কাশফ ও কারামতের ধারক, ফয়েজ বরকতের প্রস্রবণ, কামালাতের খনি— তিনি ছিলেন চরণদ্বীপ নিবাসী হজরত মাওলানা শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী (রহ.)। শত স্বাগতম, শত মুবারকবাদ, শত ধন্যবাদ এই পুণ্যাত্মা অলিকে।”

ইন্তেকাল
১৯২০ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র, শনিবার রাত ৮টা) তিনি ইন্তেকাল করেন। চরণদ্বীপ দরবার শরীফে তাঁর রওজা শরীফ আজও আধ্যাত্মিক ফয়েজ ও বরকতের উৎস হয়ে আছে।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এই মহান অলির ফয়েজ ও বরকতে ধন্য করুন— আমিন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও