জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং সংস্কারের কাজ অব্যাহত থাকবে।
ড. ইউনূস বলেন, “আমরা এমন প্রক্রিয়া শুরু করতে চাই, যাতে পরবর্তী সরকারও সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
অর্থ পাচারের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ ফেরত আনার জন্য যেসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করতে পারে, তাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন, পাচার রোধে কঠোর আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নেরও প্রয়োজন রয়েছে।
ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা কেবল উন্নয়ন নয়, বরং জবাবদিহিতামূলক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। সেই লক্ষ্যেই সরকার কঠোর সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে।
তদন্ত ও জলবায়ু বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে সংবেদনশীল অভিযোজন নীতিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। আসন্ন কপ-৩০ সম্মেলনে আমরা তৃতীয়বারের মতো জাতীয় জলবায়ু প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করব। এতে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব প্রশমন, ম্যানগ্রোভ বন ও জলাভূমি পুনরুদ্ধারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে উচ্চ-কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।

