মাদাগাস্কারের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সেনা কর্মকর্তা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনার পতনের পর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই শুক্রবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
উচ্চ সাংবিধানিক আদালতের অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন কর্নেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা। শপথের সময় তিনি বলেন, “আমি মাদাগাস্কার প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ন্যায়সঙ্গতভাবে পালন করব। জাতীয় ঐক্য ও মানবাধিকার রক্ষায় আমার সর্বশক্তি নিবেদন করব।”
শপথ গ্রহণ শেষে সামরিক কর্মকর্তারা তরবারি উত্তোলন ও তূরী বাজিয়ে নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিবাদন জানান।
এর আগে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে চলা জেন জি বিক্ষোভে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে মাদাগাস্কার। সেই বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা।
যদিও তিনি সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে নির্বাসনে থেকেও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ব্যাপক দলত্যাগ ও আদালতের দ্রুত অনুমোদনের পর অভ্যুত্থান কার্যকর হয়ে যায়।
আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ঘটনাটির নিন্দা জানালেও রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। তবে অনেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
র্যান্ড্রিয়ানিরিনা মূলত মাদাগাস্কারের অভিজাত ক্যাপস্যাট ইউনিটের অধিনায়ক। ২০০৯ সালের রাজোয়েলিনা-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে এই ইউনিট মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও বর্তমান প্রেসিডেন্ট সে সময় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
বিক্ষোভ চলাকালে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না চালানোর আহ্বান জানান এবং সেনাদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেন। এ অবস্থানই তাকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে তরুণদের মধ্যে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— দেশে স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সূত্র: আল জাজিরা

