শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বাণিজ্যিক আদালত আসছে—চট্টগ্রামে প্রধান বিচারপতির ঘোষণা

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে শিগগিরই বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়নের পথে—এ কথা জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ

- Advertisement -

তিনি বলেন, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দ্রুত ও বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত। সরকারি অনুমোদনের পর তা এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে হোটেলের কনফারেন্স হলে ‘অপারেশনালাইজিং কমার্শিয়াল কোর্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, গত দেড় বছরে বিচার ব্যবস্থায় মৌলিক রূপান্তর ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন অর্জন করেছে। এর ফলে বিচার বিভাগ নিজস্বভাবে পদসৃজন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন ও নীতিমালা প্রণয়নে স্বাধীন সক্ষমতা পেয়েছে।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা ও দ্রুত অনুমোদনের প্রশংসা করে বলেন, এতে স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জাতীয় ঐকমত্য প্রতিফলিত হয়েছে।

বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার খসড়া আইনের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের গবেষক দল আইনটির প্রাথমিক রূপ তৈরি করে, পরে রোডশো, বিডা ও ব্যবসায়িক অংশীজনদের মতামতের মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও কারিগরি সহায়তা দেয়। আইন মন্ত্রণালয়ের পরিমার্জনের পর গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে খসড়াটি।

খসড়ায় আধুনিক বিধান হিসেবে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা, সীমিত মুলতবি, সারসংক্ষেপ বিচার, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত আদালত স্থাপন এবং হাইকোর্টে পৃথক আপিল বেঞ্চ অন্তর্ভুক্ত থাকায় দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চিফ জাস্টিস বলেন, “কোনো আইন তখনই কার্যকর হয়, যখন তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।” এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সুবিধা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ বিকাশ এবং বিচার সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। সুপ্রিম কোর্ট প্র্যাকটিস ডাইরেকশন জারি করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রধান স্টেফান লিলার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, কানাডার রাষ্ট্রদূত অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিন্টন পুকি এবং সুইডেন দূতাবাসের কর্মকর্তা অলি লুন্ডিন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও