আলোচিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করে আড়িপাতার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন আধা-বিচারিক কাউন্সিল গঠনের বিধান রেখে টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫–এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৫২তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশের খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—ইন্টারনেট বা কোনো ধরনের টেলিযোগাযোগ সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না। এ সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে অধ্যাদেশের ৯৭ ধারায়।
সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এনটিএমসি বিলুপ্ত করে ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস)’ নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করা হবে। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে এবং কেবল আধা-বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে আইনানুগ ইন্টারসেপশনের ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দেবে।
সিআইএস নিজে কোনো আড়িপাতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। বরং রোল-বেজড অ্যাক্সেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংস্থাকে সহায়তা করবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো হলো—
১. ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৯৭)।
২. বিটিআরসির স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃস্থাপন।
৩. লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও সময়সীমা কমানো; উচ্চ ও পুনরাবৃত্ত জরিমানা হ্রাস।
৪. প্রতি চার মাসে বিটিআরসির গণশুনানি বাধ্যতামূলক এবং তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ (ধারা ৮৭)।
৫. সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে নাগরিক হয়রানি দণ্ডনীয় অপরাধ (ধারা ৭১)।
৬. ‘Speech Offence’ সংক্রান্ত নিবর্তনমূলক ধারা সংশোধন করে কেবল সহিংসতার আহ্বানকে অপরাধ হিসেবে রাখা (ধারা ৬৬ক)।
৭. টেলিযোগাযোগ খাতে আপিল ও সালিশ ব্যবস্থার সংযোজন (ধারা ৮২)।
৮. আইনানুগ ইন্টারসেপশনের জন্য আধা-বিচারিক কাউন্সিল গঠন ও সংসদীয় তদারকি নিশ্চিতকরণ।
৯. ভয়েস, ইমেজ, সিম ডেটা ও ডিভাইস ডেটা সুরক্ষার বিধান।
১০. জাতিসংঘ, আইটিইউসহ আন্তর্জাতিক উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।
আইনানুগ ইন্টারসেপশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত আধা-বিচারিক কাউন্সিলের নেতৃত্বে থাকবেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। এছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতি বছর ইন্টারসেপশন সংক্রান্ত একটি জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
সরকার বলছে, এসব সংশোধনের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

