রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একুশে ফেব্রুয়ারি—বাঙালির শোক ও গৌরবের অমর আখ্যান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির হৃদয়ে শোক আর গর্বের এক অনন্য মিশ্র অনুভূতি। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল তরুণদের তাজা রক্তে। সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা। আজ এ ইতিহাস শুধু বাঙালির নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা।

- Advertisement -

রক্তে রাঙানো ২১ ফেব্রুয়ারি শোক, গৌরব ও আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে জীবন দেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেক তরুণ।

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বার, শফিউর রহমানসহ নাম না–জানা অনেকে।

তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই রচিত হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম সোপান, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত সর্বত্র ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একুশের চেতনা ধারণ করেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেই অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি; বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিতকে সুদৃঢ় করেছে।

রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একুশকে বাঙালির স্মৃতিবিজড়িত গৌরবময় দিন উল্লেখ করে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার সংগ্রাম, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা জুগিয়েছে।

ভাষাবিদদের মতামত

ভাষা আন্দোলনের গবেষক ও ভাষাবিদরা মনে করেন, একুশ কেবল ভাষার দাবি নয়; এটি ছিল আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের সংগ্রাম। তাই ভাষাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলা একাডেমি–র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, উচ্চশিক্ষা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়াতে হবে। তাহলেই ভাষার উন্নয়ন ও মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হবে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪তম বর্ষপূর্তিতে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত গোটা জাতি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও