প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্মত ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (৬ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ—এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই সমন্বিত ভাবনাই ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা, যা মানুষের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাণিকূলের সুস্থতা নিশ্চিত করে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা সেবায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর—“প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম”।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু, স্বাস্থ্যবিমা সম্প্রসারণ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার করা হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যখাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিবসটির কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

