শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মমতা বনাম বিজেপি: পশ্চিমবঙ্গে হাইভোল্টেজ নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। কয়েক সপ্তাহের টানা প্রচারণা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে ভোটগ্রহণ।

- Advertisement -

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যাকে অনেকেই ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দিল্লি থেকে প্রায় ২ লাখ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে নতুন কিছু নিয়মও যুক্ত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভোটারদের লাইনে থাকা ব্যক্তিদের হাতে স্লিপ তুলে দেবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। পাশাপাশি মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ কারণে প্রথমবারের মতো বুথের সামনে মোবাইল জমা রাখার কাউন্টার চালু করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে, যাতে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি-এর মধ্যে। পাশাপাশি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রথম দফার এই ভোটে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে প্রচার চালিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি জয়ী হলে রাজ্যে প্রথমবারের মতো হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও লড়াই যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে ২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৭টি আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৮ হাজার ভোটের মধ্যে। এবারও সেই আসনগুলোতে সবার নজর রয়েছে।

এই ৫৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টি দক্ষিণবঙ্গে এবং ১০টি উত্তরবঙ্গে অবস্থিত। দক্ষিণবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, তবে সেখানে বিজেপির তৎপরতাও এবার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস ও অন্যান্য দল কিছু ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারলে ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া ছোট দলগুলোর জোট ভাঙনও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরও ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর ৪ মে ভোট গণনার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও