ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর চার মাসের ব্যবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্যের আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ৪ জুলাই থেকে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলের পবিত্র শহর কোমে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই আমন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চলমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মোদী শেষ পর্যন্ত ইরান সফরে যাবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মৃতদেহ দ্রুত দাফনের বিধান থাকলেও যুদ্ধকালীন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিলম্বের সুযোগ রয়েছে। খামেনির শেষকৃত্য নিয়েও গত কয়েক মাস ধরে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জুলাই মাসের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে।
ইরানের বিভিন্ন সূত্রের ধারণা, তেহরান, কোম ও মাশহাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এত মানুষের সমাগম হলে ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া প্রায় এক কোটি মানুষের ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।
খামেনির মৃত্যুর পর গত ৮ মার্চ তার ৫৬ বছর বয়সী ছেলে মুজতাবা হোসাইনি খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোমায় রয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে এমন সময় এই আমন্ত্রণের খবর প্রকাশ পেল, যখন কয়েক মাসের সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে এবং বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা চলছে।

