ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্ধারণ করলেও এ বিষয়ে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কয়েক ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রথম জানতে পেরেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা দাপ্তরিক চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়নি।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের এখতিয়ারের প্রতি সরকার সম্মানশীল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে কমিশনের পূর্বসমন্বয় প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, সাধারণত নির্বাচনের আগে বাজেট বরাদ্দ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যৌথ প্রস্তুতি সভা করা হয়। এসব প্রস্তুতি শেষে নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এবার সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো পর্যায়ে আলোচনা হয়নি।
এর ফলে ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে সরকার পুরোপুরি অবগত নয় বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর ইঙ্গিত দেন।
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের পর ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয়, ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয়, ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ এবং আগামী বছরের ২৭ মে সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

