রাজধানীর টঙ্গীতে রাসায়নিকের একটি গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মী দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে দুই জন ফায়ার ফাইটারের শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে।
সোমবার বিকেলে টঙ্গীতে রাসায়নিকের একটি গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মী দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে দুজন ফায়ার ফাইটার ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন।যেখানে চল্লিশ ভাগের বেশি পুড়ে যাওয়া আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দগ্ধ ফায়ার ফাইটারদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে গেলে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, আহত ফায়ার ফাইটারদের হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে দুজন ফায়ার ফাইটার শতভাগ দগ্ধ হয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
চল্লিশ ভাগের বেশি পুড়ে যাওয়া আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব রোগী আমাদের দেশেই যেমন বাঁচে বিদেশেও বাঁচে। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় এই বিষয়টি আসছিল যে রোগীদের দেশে চিকিৎসা হবে নাকি দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। দেশে থেকেই চিকিৎসা করলে রোগী ভালো হতে পারে।
ডা. মো. নাসির উদ্দিন আরও বলেন, আবেগের চেয়ে আমরা সায়েন্সকে বেশি প্রাধান্য দেবো। চিকিৎসক হিসেবে আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় সব করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, টঙ্গীতে রাসায়নিকের একটি গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন ফায়ার ফাইটারের দগ্ধের পরিমাণ বেশি। বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা হাসপাতালে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ সেবা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়।
আহতরা হলেন, ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা, মো. শামীম, অফিসার খন্দকার জান্নাতুল নাঈম ও জয় হাসান। তাদের মধ্যে দুজনের ১০০ শতাংশ দগ্ধ আর বাকি দুজনের ৪২ শতাংশ ও ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দোকানের একজন কর্মচারী তিনিও আহত হয়েছেন, তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার রাতে বার্ন ইনস্টিটিউটে আহত ফায়ার ফাইটারদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ফায়ার ফাইটারদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আগুন নেভানো, কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিস্ফোরণ সংগঠিত হওয়ায় তারা দগ্ধ হন। তারা সবাই পিপি পরেন। একটি ভিডিও ক্লিপ দেখেছেন সবাই- যেখানে দেখা যাচ্ছে ফায়ার ফাইটাররা বেরিয়ে আসছেন। আমাদের কাছে মনে হয়েছে আগুনের তাপমাত্রা অনেক বেশি ছিল। কারণ একটি পিপির তাপমাত্রা থাকে ৩০০ থেকে ৩২০। যে কারণে পিপিসহ পুড়ে গেছে।
ফায়ার ফাইটার ও অফিসাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যের জীবন ও সম্পদ বাঁচাতে গিয়ে আমাদের ফায়ার ফাইটারদের ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক হিসেবে সব সময় তাদের পাশে থাকবো এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

