হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শামস সুমন অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ-এর বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
রাশেদ মামুন অপু জানান, শামস সুমন দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
অভিনয়শিল্পী সংঘের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এক সময়ের টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ শামস সুমন মঞ্চ, ছোট ও বড় পর্দায় সমানভাবে কাজ করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রেডিও ভূমি-তে স্টেশন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সদস্য হিসেবে তার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে দেশের মিডিয়া অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘মন জানেনা মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬), ‘চোখের দেখা’ (২০১৬), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘নমুনা’ (২০০৮) এবং ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২)।
২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপুরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন, যা তার অভিনয় জীবনের অন্যতম স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও ভক্তরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

