বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকা

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

- Advertisement -

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা।

এ সময় তিনি শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও প্রকাশ করেন। তালিকায় রয়েছে—এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, কর্ণফুলী ফুডস (প্রাইভেট) লিমিটেড, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ খেলাপি হিসেবে গণনা করা হয়নি।

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি শ্রেণীকৃত ঋণ রয়েছে, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করে সমস্যা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সমাধানে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত ব্যাংকার্স সভায় নিয়মিতভাবে শীর্ষ খেলাপিদের ঋণ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বেশি খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকিং কোম্পানি (সংশোধন) আইনের আওতায় পৃথক নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও