চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতেও নজরদারি জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার কলেজে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত না হলেও ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করেন।
বৈঠক শেষে অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন জানান, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, ডাকসুর ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম দুপুরে লালদীঘির পাড়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, “হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
পুলিশের গাফিলতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো গাফিলতি থেকে থাকে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে সিএমপি কমিশনার বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের নজরদারি রয়েছে এবং পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।”
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, বুধবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে ক্লাস স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিকেলে সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি গ্রাফিতির লেখাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর জেরে সকালে হাতাহাতি এবং বিকেলে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির কারণে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

