ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র মিলিশিয়াদের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই একযোগে হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওই সৌদি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে এই হামলার পরিকল্পনা হতে পারে।
তার দাবি, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো। ইতোমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তরের তথ্যও নজরে এসেছে, যা সমন্বিত হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। জুলাইয়ের শেষদিকে তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে সৌদি আরব। এরপর ইরাকে অবস্থানরত ওই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সঙ্গে যৌথ বিমান অভিযানও চালায় রিয়াদ।
এর জবাবে ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তবে সৌদি কর্মকর্তা বলেছেন, দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, হুতিরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক হামলার দাবি করেছে। এর পাল্টা জবাবে ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব।

