টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এসডিজি ভিলেজ’ বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।
এ সময় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামে এসডিজি স্থানীয়করণের পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিন গ্রামের বাসিন্দারা এ কার্যক্রমের সুফল ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু ইকোনমি, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকো ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এ মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে সার্বজনীন করার মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসন-শোষণে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের সময় এসেছে। এ লক্ষ্যে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণের অগ্রগতি সুসংহত করতে সরকারের ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’—এই ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। চলতি মেয়াদের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতার এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক বক্তব্য দেন।

