মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

- Advertisement -

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এসডিজি ভিলেজ’ বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

এ সময় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামে এসডিজি স্থানীয়করণের পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিন গ্রামের বাসিন্দারা এ কার্যক্রমের সুফল ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু ইকোনমি, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকো ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এ মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে সার্বজনীন করার মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসন-শোষণে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের সময় এসেছে। এ লক্ষ্যে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণের অগ্রগতি সুসংহত করতে সরকারের ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’—এই ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। চলতি মেয়াদের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতার এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক বক্তব্য দেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও