মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

প্রতিদিন দই খাবেন? আগে জেনে নিন উপকার ও ক্ষতির দিক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

দই শুধু সুস্বাদু খাবার নয়, এটি আমিষ, ক্যালশিয়াম ও উপকারী জীবাণুরও ভালো উৎস। নিয়মিত পরিমাণমতো দই খাওয়ার অভ্যাস হজম, পেট ভরা অনুভূতি এবং হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

- Advertisement -

সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার কিংবা বিকেলের হালকা খাবার—বিভিন্নভাবেই দই খাওয়া যায়। তবে দই খাওয়ার উপকারিতা ব্যক্তি ও দইয়ের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

হজমে সহায়তা করতে পারে

দইয়ে থাকা উপকারী জীবাণু অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ভালো থাকতে পারে এবং গ্যাস বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তিও কিছুটা কমতে পারে।

তবে খাবারের ধরনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত নাশতার পরিবর্তে দই খেলে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমতে পারে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমিয়ে ফোলাভাব তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে

বিশেষ করে ঘন দইয়ে আমিষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। দইয়ের আমিষ ও চর্বি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে খাবারের মাঝখানে অপ্রয়োজনীয় নাশতা খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

বিকেলে বারবার বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে চিনি ছাড়া সাধারণ দই হতে পারে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

হাড় ও পেশির জন্য উপকারী

দই ক্যালশিয়ামের ভালো উৎস। হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দইয়ের আমিষ পেশির বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত পেশি পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।

তাই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমাণমতো দই রাখলে হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

দই খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। ফলে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে দই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তবে শুধু দই খেলেই ওজন কমবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার দিকেও নজর দিতে হবে।

সব দই কি সমান উপকারী?

না। দইয়ের ধরন বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া সাধারণ দই বেছে নেওয়া ভালো। অনেক ফ্লেভারযুক্ত দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে, যা নিয়মিত খেলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের কারণ হতে পারে।

চিনি ছাড়া দইয়ের সঙ্গে তাজা ফল, বাদাম বা সামান্য মধু যোগ করে খাওয়া যেতে পারে। ঘন দইও ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এতে আমিষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি এবং এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

অতিরিক্ত দই খেলে সমস্যা হতে পারে?

স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত দই খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে চিনি মেশানো দই বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি যেতে পারে।

যাদের দুধের চিনি বা ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা হয়, তাদের কেউ কেউ দুধের তুলনায় দই সহজে সহ্য করতে পারেন। তবে দই খাওয়ার পর পেটব্যথা, গ্যাস বা অন্য কোনো অস্বস্তি হলে পরিমাণ কমানো কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া যাদের কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে আমিষ বা ক্যালশিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে খেতে হয়, তারা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় দই যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

দই কেনার সময় যা খেয়াল করবেন

দই কেনার সময় এতে অতিরিক্ত চিনি রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া সাধারণ দই বেছে নেওয়াই ভালো।

দুধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে চাইলে বাদাম, সয়া বা নারকেল থেকে তৈরি বিকল্প দইও খাওয়া যেতে পারে। তবে এসব পণ্যে উপকারী জীবাণু, আমিষ ও ক্যালশিয়াম যুক্ত আছে কি না, তা লেবেল দেখে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

তাহলে কি প্রতিদিন দই খাওয়া যাবে?

পরিমাণমতো এবং সঠিক ধরনের দই খেলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। দই হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে এবং হাড় ও পেশির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে।

তবে দই খাওয়ার পর শরীরে অস্বস্তি হলে জোর করে প্রতিদিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে দইয়ের পরিমাণ ও ধরন ঠিক করাই ভালো।

সবশেষে, দই স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিমাণমতো দই খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও