সালাম একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ শান্তি, দোয়া ও কল্যাণ। ইসলামে সালামের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সালামের মাধ্যমে মুসলমানরা পরস্পরের মধ্যে অভিবাদন জানায়, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সালাম একটি দোয়া হিসেবেও বিবেচিত।
অনেকেই জানতে চান—খাওয়ার সময় কাউকে সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া কি আবশ্যক?
এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা হলো—খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া নাজায়েজ। তবে এই ধারণা সঠিক নয়। কেউ খাবার খাচ্ছে এমন অবস্থায় তাকে সালাম দেওয়া জায়েজ। একইভাবে খেতে থাকা ব্যক্তির জন্যও অন্যকে সালাম দেওয়া জায়েজ।
তবে খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয়, তাহলে এমন সালাম দেওয়া অপছন্দনীয় বলে গণ্য হবে।
আলেমরা আরও বলেন, যদি কেউ খাবার খাওয়ার সময় মুখে লোকমা থাকা অবস্থায় সালাম দেয়, তাহলে ওই মুহূর্তে সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব নয়। বরং উত্তর না দেওয়াই উত্তম। কারণ উত্তর দিতে গেলে খাবার গলায় আটকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তবে মুখে খাবার না থাকা অবস্থায় সালাম দেওয়া হলে তার উত্তর দেওয়া আবশ্যক।
সালামের সঠিক উচ্চারণ
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
(উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু)
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
(উচ্চারণ: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু)
সালামের ফজিলত
হজরত ইমরান ইবনু হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে— এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম। নবীজি ﷺ বললেন, দশ নেকি।
আরেক ব্যক্তি বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি বললেন, বিশ নেকি। আরেকজন বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি বললেন, ত্রিশ নেকি। (আবু দাউদ: ৫১৫৩; তিরমিজি: ২৬৮৯)
ইসলামে তাই সালাম শুধু সৌজন্যমূলক অভিবাদন নয়, বরং এটি ইবাদত ও সওয়াব অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

