বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আজ জুমাতুল বিদা—রমজানের বিদায়ে ইবাদতে মগ্ন দেশ

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আজ জুমাতুল বিদা। সারা দেশে দিনটি গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদত-বন্দেগি এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।

- Advertisement -

রমজানের বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় এই জুমা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন। ‘বিদা’ শব্দের অর্থ বিদায়—অর্থাৎ রমজানের শেষ জুমাই জুমাতুল বিদা। যদিও এটি কোনো স্বতন্ত্র ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত নয়, তবে রমজানের শেষ সময়ের বরকতের কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

পবিত্র আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে” (সূরা আল-কদর: ১)। এই লাইলাতুল কদর-এর তাৎপর্যও রমজানের শেষ দশকের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় (সহিহ বুখারি)। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজানে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (মুসনাদে আহমদ)।

এছাড়া জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে সহিহ মুসলিমে এসেছে—সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। ফলে রমজানের শেষ জুমা হওয়ায় এই দিনের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।

এদিন মুসল্লিরা বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, দান-সদকা, জিকির-আজকার ও তওবা-ইস্তিগফারে মনোনিবেশ করেন। দেশের বিভিন্ন মসজিদে খতিবরা জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করছেন।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হচ্ছে।

ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, জুমাতুল বিদা আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়—পুরো রমজান কেমন কাটলো, নিজেকে কতটা পরিবর্তন করা গেল, তা ভাবার সুযোগ এনে দেয় এই দিন।

রমজানের এই বিদায়ী মুহূর্তে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, অতীতের গুনাহের জন্য তওবা করা এবং ভবিষ্যতে সৎ পথে চলার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের বরকত অর্জনের তাওফিক দান করুন এবং এই পবিত্র দিনে আমাদের দোয়া কবুল করুন—আমিন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও