এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন লাখো মুসল্লি।
বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের প্রতিটি বড় ময়দান ও মসজিদে সম্পন্ন হয়েছে ঈদের জামাতের সকল প্রস্তুতি। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।
তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ইমামতি করবেন খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প ইমাম হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, এবারের ঈদ জামাতে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে মেডিকেল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই। তবুও সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়েছে এবং প্রবেশমুখে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরসহ ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এর উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। সেখানেও মুসল্লিদের জন্য সুশৃঙ্খল পরিবেশ, পৃথক প্রবেশপথ ও ওজুর সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।

