শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব—জানুন সঠিক বিধান

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম যাকাত হলেও পবিত্র রমজান মাসের শেষে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিমের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এটি শুধু একটি ধর্মীয় বিধান নয়; বরং এক মাসের সিয়াম সাধনার পর রোজার ভুলত্রুটি সংশোধন এবং সমাজের অসচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

- Advertisement -

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়’— কুরআনুল কারিম-এর সুরা আলা-এর ১৪ নম্বর আয়াতে এ কথা উল্লেখ রয়েছে।

হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, সদকাতুল ফিতরের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, রোজাকালে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি—অশালীন কথা বা কাজে—রোজার যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা। দ্বিতীয়ত, ঈদের আনন্দ যেন কেবল সচ্ছলদের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য দরিদ্র ও অভাবী মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করা।

সাহাবি ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ (সা.) ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন—প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর ফিতরা অপরিহার্য করেছেন। যারা ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তাদের ওপরই ফিতরা আদায় ওয়াজিব হবে।

সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণেও শরিয়তে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। খেজুর, পনির, জব বা কিশমিশের মাধ্যমে আদায় করলে এক ‘সা’—প্রায় ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম—পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য বা তার সমমূল্য দিতে হয়। আর গম বা আটা দিয়ে আদায় করলে ‘নিসফে সা’—প্রায় ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম—বা তার বাজারমূল্য প্রদান করতে হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে আধা সা ধরা হয় প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম।

সামর্থ্যবানদের উচিত সর্বনিম্ন মূল্যের খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত উচ্চমূল্যের মানদণ্ডে ফিতরা আদায় করা, যাতে দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হন।

ফিতরা আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে। হাদিসে নির্দেশ রয়েছে, নামাজের পূর্বেই তা গরিবের হাতে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে তারাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। তবে কোনো কারণে নামাজের আগে দেওয়া না হলে ঈদের দিনের যেকোনো সময় বা পরবর্তীতেও আদায় করা যাবে।

ফিতরা শুধু নিজের পক্ষ থেকে নয়, নিজের অধীনে থাকা পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও অভিভাবককে আদায় করতে হয়।

আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন, কেবল যাকাতদাতারাই ফিতরা দেবেন। বাস্তবে ফিতরার ক্ষেত্রে যাকাতের মতো এক বছর সম্পদ সঞ্চিত থাকার শর্ত নেই; বরং ঈদের দিনের আর্থিক সক্ষমতাই বিবেচ্য। দাতার কাছে যা উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান, তা দিয়েই দান করা সর্বোত্তম।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও