শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

গর্ভাবস্থায় রোজা — শরিয়তের নির্দেশনা ও করণীয়

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ নারী-পুরুষের ওপর রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। তবে মানবজীবনের বাস্তবতা বিবেচনায় ইসলাম কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের বিধান দিয়েছে। গর্ভবতী নারীর রোজা রাখা নিয়েও শরিয়তে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

- Advertisement -

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন–এ বলেন, “হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)। এ আয়াতের ভিত্তিতে সাধারণ অবস্থায় গর্ভবতী নারীর জন্যও রোজা ফরজ।

তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে, গর্ভবতী নারী যদি আশঙ্কা করেন যে রোজা রাখার কারণে তার নিজের স্বাস্থ্য বা গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে, সে ক্ষেত্রে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি পরে সুস্থ হলে ওই রোজাগুলো কাজা আদায় করবেন।

এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে সে অন্য সময়ে সমসংখ্যক রোজা পূরণ করবে।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৪)। ফিকহবিদদের মতে, গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা যদি কষ্টকর বা ক্ষতিকর হয়, তবে অসুস্থ ব্যক্তির বিধানের সঙ্গে মিল রেখে পরে কাজা আদায় করাই সঠিক পন্থা।

ধর্মীয় আলেমরা পরামর্শ দেন, গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে রোজা রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও