পবিত্র রমজান মাসে অনেকেরই একটি সাধারণ অভ্যাস হলো সেহরির শেষ মুহূর্তে—আজানের ঠিক আগে—একসঙ্গে কয়েক গ্লাস পানি পান করা। অনেকের ধারণা, এভাবে বেশি পানি পান করলে সারাদিন কম পিপাসা লাগবে। তবে শরীরবিজ্ঞানের আলোকে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি সত্যিই কার্যকর, নাকি কেবল মানসিক স্বস্তি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহ একসঙ্গে খুব বেশি পানি ধরে রাখতে পারে না। তাই সেহরির শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত পানি পান করা খুব একটা উপকারী নয়।
কারণ একসঙ্গে বেশি পানি পান করলে কিডনি দ্রুত তা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে ফজরের কিছু সময় পরই আবার তৃষ্ণা অনুভূত হতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত পানি পানের কারণে অনেক সময় পেট ভারি লাগা, ফাঁপা ভাব বা অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। তাই রোজার সময় পানিশূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও একসঙ্গে অনেক পানি পান করাই সমাধান নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পুরো সময়টিতে অল্প অল্প করে পানি পান করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। এতে শরীর ধীরে ধীরে পানি শোষণ করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় শরীর হাইড্রেটেড থাকে। সেহরির সময় মাঝারি পরিমাণ পানি পান করা যেতে পারে, তবে একসঙ্গে কয়েক গ্লাস পানি পান না করাই ভালো।
এছাড়া রোজার সময় পিপাসা লাগার বিষয়টি শুধু পানির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্যও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি না খেলে এই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যার ফলে দিনের বেলায় তৃষ্ণা আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সেহরির শেষ মুহূর্তে বেশি পানি পান করা কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। বরং সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিমাণে পানি পান এবং সুষম খাবার গ্রহণই রমজানে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

