পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশ দিন চলছে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই ইফতারে পর্যাপ্ত পানি ও পানীয় গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এতে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। পানি কম পান করলে হজমের সমস্যা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
ইফতারে পানি ছাড়াও চিনি ছাড়া ফলের জুস, লেবুর শরবত বা মৌসুমি ফলের পানীয় খাওয়া যেতে পারে। এসব পানীয় শরীরকে দ্রুত সতেজ করে এবং শক্তি জোগায়।
পর্যাপ্ত পানি পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সচল রাখতে সহায়তা করে। এতে ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব দূর হয়ে শরীরে ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য।
তবে অনেকেই ইফতারে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। হঠাৎ খুব ঠাণ্ডা পানি খেলে শ্বাসনালীতে সমস্যা, রক্তনালী সংকুচিত হওয়া, হজমের সমস্যা এমনকি দাঁতের ক্ষতিও হতে পারে।
ইফতারে পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে খেতে পারেন—খেজুর-পেস্তার শরবত, মাল্টার জুস, শসা-লেবুর শরবত, কলা-দুধের স্মুদি, কাঁচা আমের শরবত, তরমুজ বা বেলের শরবত।
এছাড়া ডাবের পানি ইফতারের জন্য খুবই উপকারী। এতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইফতারের খাবারে পানি ও পুষ্টির সুষম সমন্বয় রাখতে হবে, যাতে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে কোনোভাবেই পানিশূন্যতা তৈরি না হয়।

