রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইফতার ও সেহেরির মাঝের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় কী খাওয়া হচ্ছে এবং কতটুকু খাওয়া হচ্ছে—তার ওপরই নির্ভর করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না। তাই সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন করলে ডায়াবেটিস থাকলেও রোজা রেখে সুস্থ থাকা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইফতার ও সেহেরির মাঝের সময়টিতে এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা ধীরে ধীরে শক্তি দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় না।
ইফতারের পর কী খাবেন
অনেকেই ইফতারের সময় অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা মিষ্টি খেয়ে ফেলেন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ইফতার শুরু করা ভালো খেজুর ও পানি দিয়ে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খেজুরের পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত।
এরপর খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে—সবজি স্যুপ, সালাদ, অল্প পরিমাণ ব্রাউন রাইস বা আটার রুটি, গ্রিল বা সেদ্ধ মাছ-মাংস, ডাল এবং বিভিন্ন শাকসবজি। ভাজাপোড়া খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি কিংবা চিনি মেশানো পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
ইফতার ও সেহেরির মাঝের সময় কী খাবেন
রমজানে এই সময়টিকে অনেকটা রাতের খাবারের মতো ধরা হলেও একসঙ্গে বেশি না খেয়ে ছোট ছোট ভাগে খাবার খাওয়া ভালো। এতে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হয়।
এই সময় খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন—আপেল, পেয়ারা, কমলা মতো ফল; চিনি ছাড়া দই; অল্প পরিমাণ বাদাম বা কাঠবাদাম; চিয়া সিড বা ওটস। এছাড়া ডাবের পানি কিংবা পর্যাপ্ত স্বাভাবিক পানি পান করা উচিত।
এসব খাবার শরীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
সেহেরির আগে যা খেয়াল রাখবেন
ইফতার ও সেহেরির মাঝখানে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই জরুরি। কারণ পানিশূন্যতা রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই এই সময় অতিরিক্ত মিষ্টি, সফট ড্রিংকস বা প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি
রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঘাম হওয়া বা কাঁপুনি দেখা দিলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত রোজা ভেঙে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া রোজা শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব ডায়াবেটিস রোগীর জন্য রোজা রাখা নিরাপদ নাও হতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সুস্থভাবে রোজা রাখা সম্ভব। ইফতার ও সেহেরির মাঝের সময়টি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। তাই অতিরিক্ত খাবার নয়, পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবারই হতে পারে সুস্থ রমজানের চাবিকাঠি।

