ঈদ মানেই আনন্দ, আর ঈদুল ফিতর হলো সেই আনন্দের দিন—যেদিন এক মাসের রোজা শেষে বান্দা পায় মহান আল্লাহর ক্ষমা ও পুরস্কার। তাই ঈদের আনন্দ কেবল উৎসবের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের প্রতিদান পাওয়ার আনন্দ।
হাদিসে বর্ণিত আছে, সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে—মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ঈদের দিন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের সামনে রোজাদার বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন এবং তাদের দোয়া কবুল ও গুনাহ মাফ করে দেন (বায়হাকি, হাদিস: ৩৪৩)।
ঈদের এই আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে মানুষ ছুটে যায় আপন ঠিকানায়। তবে দীর্ঘ যাত্রাপথে অসতর্কতা অনেক সময় আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে। তাই নিরাপদ সফরের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল অনুসরণ করা জরুরি—
১. একা সফর এড়িয়ে চলুন
দীর্ঘ যাত্রায় একা না গিয়ে সঙ্গী নিয়ে সফর করা উত্তম। রাসুল (সা.) একাকী ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, একা সফরে নানা বিপদের আশঙ্কা থাকে (বুখারি, হাদিস: ২৯৯৮)।
২. যাত্রার আগে নামাজ আদায়
বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। হাদিসে এসেছে, সফরের আগে এই নামাজ পরিবারের জন্য কল্যাণকর (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা, হাদিস: ৪৯১২)।
৩. যানবাহনে ওঠার দোয়া
যে কোনো যানবাহনে ওঠার সময় দোয়া পড়া সুন্নত। দোয়াটি হলো—“সুবহানাল্লাজি সাখখরা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন।”
অর্থ: “পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এটিকে আমাদের জন্য নিয়ন্ত্রিত করেছেন, অথচ আমরা নিজেরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না।”
উল্লেখ্য, ঈদের প্রকৃত আনন্দ শুধু নতুন পোশাক বা উৎসবে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর মধ্যেই নিহিত।

