রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর মধ্যে একটি হলো ইতেকাফ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। তাই রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও লাইলাতুল কদর লাভের আশায় মুসলমানরা মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মশগুল থাকেন।
২০ রমজান সূর্যাস্তের আগে অর্থাৎ ইফতারের আগেই ইতেকাফের নিয়তে মসজিদে উপস্থিত হতে হয়। এই সময় থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও ইবাদতের মাধ্যমে সময় কাটানোই হলো ইতেকাফ।
ইতেকাফ কী
ইতেকাফ শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরা বা কোনো উদ্দেশ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মশগুল থাকাকে ইতেকাফ বলা হয়।
কেন ইতেকাফ করা হয়
রমজানের শেষ দশকের কোনো এক বেজোড় রাতে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই বরকতময় রাত লাভের আশায় মুসলিম উম্মাহ রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করে থাকেন। মহানবী (সা.) আমৃত্যু এ আমল পালন করেছেন।
ইতেকাফের গুরুত্বপূর্ণ মাসায়িল
ইতেকাফে বসার জন্য নিয়ত করা আবশ্যক। পুরো দশ দিনের জন্য নিয়ত না করলে তা সুন্নত ইতেকাফ হিসেবে গণ্য হবে না। ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি আলিঙ্গন বা চুম্বন করাও বৈধ নয়।
ইতেকাফের সময় কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, দ্বীনি আলোচনা ও ইলম অর্জন করা উত্তম। তবে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা বা মসজিদকে ব্যবসাস্থলে পরিণত করা মাকরূহ।
ইতেকাফ সহিহ হওয়ার শর্ত
ইতেকাফ সহিহ হওয়ার জন্য মুসলমান হওয়া, জ্ঞানবান হওয়া এবং জানাবাত, হায়েজ ও নিফাস থেকে পবিত্র থাকা শর্ত। নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি নিয়ে নিজ ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে ইতেকাফ করতে হবে।
কোথায় ইতেকাফ করা উত্তম
যে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা হয় সেখানে ইতেকাফ করা উত্তম। সবচেয়ে উত্তম স্থান হলো মক্কার মসজিদুল হারাম, এরপর মদিনার মসজিদে নববি এবং তারপর জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা।
ইতেকাফের আদব
ইতেকাফ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন, জিকির-আজকার ও ইবাদতের মাধ্যমে সময় কাটানোই হলো ইতেকাফের মূল উদ্দেশ্য।
সবকিছু মিলিয়ে দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং লাইলাতুল কদরের বরকত অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকাই ইতেকাফের প্রকৃত লক্ষ্য।

