বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার—সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এটি দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

- Advertisement -

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ-এ প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বছরে গড়ে এর পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার।

তিনি জানান, আদালত এ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল ও ৬টির রায় হয়েছে।

অগ্রাধিকার মামলাগুলোর তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নেতৃত্বে সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অতীতের মতো জোরপূর্বক কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। আগামী চার বছরে ৪ কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, নারীর নামে কার্ড দেওয়ার ফলে পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় বাড়বে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির অর্থ ছাপানো টাকা দিয়ে নয়; বরং পরিকল্পিত বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা নেই। বরং এই অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হয়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও