টানা অতিভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যার পর আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে সড়ক ও অলিগলিতে চলাচল ব্যাহত হয়। দিনভর বৃষ্টির সঙ্গে সন্ধ্যায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাত ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, একই সময়ে সেখানে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উঁচু করলেও আশপাশের বাসাবাড়ি ও অলিগলিতে পানি ঢুকে দুর্ভোগ বাড়ছে। কাতালগঞ্জের বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, জলাবদ্ধতা যেন বছরের পর বছর একই সমস্যায় আটকে আছে। সড়ক কিছুটা উঁচু হলেও আবাসিক এলাকা ও দোকানপাট পানিতে ডুবে যায়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সিডিএর কর্মীরা পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে মাঠে কাজ করছেন। এদিকে বৃষ্টির কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও পার্কিং জোনেও পানি জমেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন। কোথাও পানি জমার খবর পেলেই সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীকে নালা-নর্দমা ও খালে আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান।
এদিকে পাহাড়ি ঢল, কর্ণফুলী নদীর জোয়ার এবং টানা ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

