পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়েছে শেষ ষোলোতেই। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে দলটি। আর এই হারেই শেষ হয়ে গেল পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। বিদায়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেই কোনো আক্ষেপ নেই।
সোমবার (৬ জুলাই) ডালাসে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পায় স্পেন। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার মতো সময় আর পায়নি পর্তুগাল।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, “এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। নিজের সেরাটা চেষ্টা করেছি এবং পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে এখন আমি চিন্তা করার এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে এখনই কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেব না।”
৪১ বছর বয়সী এই তারকা স্পষ্ট করে জানান, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “আমি আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না।”
রোনালদো মনে করেন, ম্যাচটি যেকোনো দিকেই যেতে পারত। তার মতে, স্পেন শেষ পর্যন্ত কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে বলেই জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পর্তুগালকে তিনটি বড় শিরোপা এনে দিয়েছেন রোনালদো। তার নেতৃত্বে ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জিতেছে পর্তুগাল।
বিদায়বেলায় নিজের অর্জনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আগে পর্তুগাল কোনো শিরোপা জেতেনি। ২০১৬ সালের ইউরো শিরোপা আমার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের মতোই মূল্যবান।”
পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে কোচ রবার্তো মার্তিনেসের দায়িত্বেরও সমাপ্তি হয়েছে। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রোনালদো বলেন, তিনি একজন অসাধারণ কোচ এবং মানুষ। পর্তুগালের ফুটবলে তার অবদান সবসময়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সবশেষে রোনালদো বলেন, *“বড় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া সবসময়ই কষ্টের। তবে আমরা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছি। এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।”

