পবিত্র রমজান মাসে সেহরি খাওয়ার জন্য ভোররাতে ঘুম থেকে উঠতে হয়। ফলে অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। এই সময়ে শরীর সুস্থ রাখা এবং ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেরই প্রশ্ন—সেহরি খাওয়ার কতক্ষণ পর ঘুমানো উচিত?
রমজানে রাতের ঘুম ভেঙে সেহরি খেতে হয়। এ কারণে অধিকাংশ মানুষই সেহরি শেষ করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। সেহরি খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ঘুমাতে যাওয়া উচিত।
মানবদেহে একটি প্রাকৃতিক সময়চক্র রয়েছে, যাকে দেহঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি সার্কাডিয়ান রিদম নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়া আমাদের ঘুমানো ও জেগে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ করে।
সাধারণত একজন মানুষের টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন হয়। কিন্তু রমজানে সেহরির কারণে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে এই প্রাকৃতিক সময়চক্রে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে।
রমজানে রাতে তারাবি নামাজ শেষে যত দ্রুত সম্ভব ঘুমাতে গেলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়। এতে সেহরির জন্য ভোরে উঠলেও ঘুমের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হয়।
খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়লে শরীরের মেটাবলিজমের গতি কমে যায়। এতে— খাবার হজমে সমস্যা হতে পারে, ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সেহরি শেষ করার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়ে কিছু সময় জেগে থাকা ভালো। এ সময়— ফজরের নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, হালকা হাঁটা বা কিছু সময় বসে থাকা। এসব অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সেহরি খাওয়ার পর অন্তত আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং শরীরও সুস্থ থাকে।

